✍️যেকোন উত্তম স্ত্রীও খারাপ হয়ে যাবে যখন তার কাছ থেকে শুধু ভালটা প্রত্যাশাই করে যাওয়া হবে বিনিময়ে তাকেও তার বলা বা না বলা প্রত্যাশাগুলো পুরন করা হবে না!
সকল শ্বশুর শ্বাশুড়ীর প্রতি যত্নবান স্ত্রীও একদিন বাজে খেতাব পাবে যখন আপনি আপনার স্ত্রীর মা বাবার প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক আর যত্নশীল হবেন না। বা ভুলেই যাবেন তার মা বাবার প্রতি তারও ঠিক ততটুকুই মন আছে যতটা আছে আপনার বাবা মায়ের প্রতি আপনার। যখন এটা ভুলে যাবেন যে আপনার মা বাবাও আপনাকে বড় করতে যতটা পরিশ্র
ম আর কষ্ট করেছে আপনার স্ত্রীর মা বাবাও তাকে তার চেয়ে বেশী কষ্ট পরিশ্রম আর যত্ন করে বড় করেছে। কারন সে মেয়ে। আপনার মা বাবার চেয়েও তাকে তার মা বাবা বেশী যত্ন না করলে আজকে আপনি তাকে ভাল অবস্থায় পেতেন না। তখনই সে খারাপ স্ত্রী হয়ে যাবে যখন আপনি ভুলে যাবেন আপনার জান্নাত আপনার মা বাবা কিন্তু আপনার স্ত্রীর জান্নাত তার মা বাবা। আপনার প্রতি বিয়ের পর থেকেই আল্লাহ শুধু হালাল কর্মে আনুগত্য করতে বলেছেন কিন্তু মা বাবার প্রতি তাকে জন্ম থেকেই আনুগত্য আর যত্নশীল হতে বলেছেন। আপনার জন্য আল্লাহ মা বাবার যে হক নির্ধারন করেছেন আপনার স্ত্রীর জন্য ঐ একই নির্দেশ।আলাদা করা হয়নি।তবে কেন আপনি শুধু আপনার স্ত্রীর কাছ থেকে আপনার মা বাবার যত্ন কামনা করেন?আর আপনাট স্ত্রীর মা বাবার কথা কখনো মাথাতেই আনেন না?
সব মেয়েরাই আলাদা সংসার চায়না। শুধুমাত্র আপনি আপনার প্রতি স্ত্রীর সকল দায়িত্ব আর কর্তব্যগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করুন দেখবেন যেকোন খারাপ স্ত্রীও ভাল হতে বাধ্য। কারন দিনশেষে সে একজন মেয়ে যার মনে মাতৃত্বের মত মমতা বসবাস করে।এমন কথা কোথায় পেয়েছেন যে কেবলমাত্র স্ত্রীরাই বজ্জাত স্বামীকে ভাল করবে?একে অপরের প্রতি যত্নশীল না হলে একজন ভাল হলে সেও বাজে হয়ে যেতে বাধ্য!আর একে অপরের প্রতি যত্নশীল হলে দুজনই সুন্দর জীবন পাওয়া অবশ্যম্ভবী।
কিন্তু আমাদের সমাজে একতরফা কিছু রীতি প্রচলিত আছে। যার সব এখানে উল্লেখ সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু যদি আপনি ইসলামে সেসকল ব্যাপার রিসার্চ করতে যান তবে এটা প্রমাণিত হবে যে আপনি আপনার স্ত্রীর প্রতি প্রতিনিয়ত জুলুম করছেন। যা আল্লাহ ক্ষমা নাও করতে পারেন। যেমন একটা বিষয় একটুখানি উল্লেখ করি,বিয়ের পর আপনার স্ত্রীর পৃথক বাসস্থান যেখানে সে সাচ্ছন্দ্যবোধ করবে তাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।এটাই ইসলামের নিয়ম। আপনি ছাড়া আপনার ভাই বা অন্য কাউকে তো সেবা করতে হবে এমনটাও বাধ্যবাধকতা নেই।আপনার মা বাবাকেও আপনাকে সেবা করতে বলা হয়েছে।আপনি সন্তান হিসাবে।আপনার স্ত্রী আপনার সহযোগীতা করতে পারে মাত্র কিন্তু তার জন্য এটা বাধ্যতামূলক নয়।যতটা বাধ্য থাকবেন আপনি।আর আপনার স্ত্রী বাধ্য থাকবে আপনার অনুমতি সাপেক্ষে তার মা বাবার সেবা করতে। আপনার পুরো পরিবারকে দেখাশোনা বরং এটা পর্দার খেলাপ করে।যার দায় ভার সম্পূর্ণ আপনাকেই,নিতে হবে। মনে রাখবেন বিয়ের পর আপবার স্ত্রী যে গোনাহই করুক আপনি যদি বাধা না দেন তবে তার দায়,আপনাকে নিতে হবে। অথচ আমাদের সমাজে কোন মেয়ে যদি স্বামীর সাথে একা থাকতে ইচ্ছুক হয় তাকে শুনতে হয় বহু কথা(যদিও এটা মেনে নিতে আমার কোন আপত্তি নেই যে অধিকাংশ মেয়েরাই বর্তমানে পর্দা বা ইসলামের কারনেই স্বামীর সাথে একা থাকতে চায়না কিন্তু যারা চায় তাদের কথা বলছি)। রাসুল(সাঃ) এর সময়ও এমনটাই ছিল সবাই। আমরা বিভিন্ন বর্ননায় হযরত আলী আর ফাতেমা(রা) একা বসবাসের কথা শুনে থাকি। এমন টাই ছিল সবাই। এমনকি প্রিয় রাসুল(সাঃ) এর সকল স্ত্রীর ঘরগুলোও আলাদা ছিল যদিও তিনি গরীব ছিলেন। সুতরাং সমাজ, জীবন, এবং পরিবারের সকল ক্ষেত্রে চিরাচরিত দেশীয় প্রথা বাদ দিয়ে ইসলামকে প্রাধান্য দিন। দেখবেন জীবন সুখে ভরে যাবে ইনশাআল্লাহ। হয়ত সমাজের লোকজন দু চারটা কথা বলবে কিন্তু কাল আপনার কবরে আপনাকেই একা যেতে হবে। আপনি কাউকে যত্ন নিচ্ছেন তার মানে এই নয় যে আপনি ছোট হয়ে গেলেন বা আপনি তারই যত্ন নিচ্ছেন, আপনি আপনার ভাল আমলকে যত্ন নিচ্ছেন এটা তার লাভ নয় এটা আপনার শুধুমাত্র আপনারই লাভ অন্য কারো নয়। মনে রাখবেন মা বাবা ভই বোন স্ত্রী সন্তান সবাই সবার কাছে শুধুমাত্র দুদিনের মেহমান। তাই যার প্রাপ্যটা তাকে দিন।কারো প্রতি বিন্দুমাত্র বেইনসাফ বা জুলুম করা থেকে বিরত থাকুন।কারন এ মেহমানদারিত্ব শেষ হলে আপনার জবাবদিহিতা আপনাকেই করতে হবে।কেউ কাউকে চিনবে না। বা কারো কারনে আজকের করা পাপের দায়ও কেউ সেদিন নিবেনা। নিজেকেই সে ভার বইতে হবে। সেদিন বলা হবে না যে আপনার সমাজ আপনাকে কি বলেছিল এবং আপনি কি করেননি। আপনাকে বলা হবে ইসলাম আপনাকে কি বলেছিল এবং আপনি কি করেননি। আল্লাহ আমাকে সবাইকে হেদায়াত দান করুন। সৎ কাজের সে তাওফীক দান করুন। আমিন।🤲











0 Comments